আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ অসুস্থতা ]

in hive-129948 •  5 days ago 

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি তবে সেটা শারীরিকভাবে নয় বরং মানসিকভাবে। কারণ গতকাল জীবনের কঠিনতম একটা দিন পার করেছি, সকালে ভীষণ বুকে ব্যথা নিয়ে অফিসে জয়েন করেছিলাম। তারপর অফিসের কলিগসহ বাড়িতে ফেরা সেই বুক ব্যথা না করার কারণে। আসলে আমাদের জীবনের কখন কি হয় বা হবে? সেটা আমরা কখনোই অনুমান করতে পারি না, এই সুস্থ আছি তো পরক্ষণেই অসুস্থ, এটাই হয়তো নির্মম বাস্তবতা। আমাদের জীবনের প্রতি মুহুর্তেই রয়েছে অনিশ্চয়তা।

এই অনিয়শ্চতা নিয়েই হয়তো আমাদের জীবনকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করতে হয় বা হবে। সেটাই হয়তো করার চেষ্টা করেছিলাম আমি। যাইহোক, সেখানে ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে ফিলতে বাধ্য হই, কারন ব্যথা বেশ পরিমানে বেড়ে গিয়েছিলো এবং সেটা অনেকটাই অসহ্যকর হয়ে গিয়েছিলো। দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসি এবং তারপর সেই লেভেলের একটা ঘুম দেই, অবশ্য এর মাঝে পানি ছাড়া তেমন কিছুই খাই নাই, শুধুমাত্র এন্টাসিড প্লাস বাদে। আমার যতটা অনুমান সেটা হলো হয়তা কোন খাবারের কারণে পেটে গ্যাস জমেছিলো আর সেই থেকেই এই তীব্র যন্ত্রণা।

lantern-6826691_1280.jpg

আমি আসলে খাবারের ব্যাপারে খুব বেশী খুতখুতে স্বভাবের, পছন্দ না হলে কিংবা ভালো খাবার না হলে সেটা খাওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাই না। এটা আমার সেই ছোটবেলা হতেই অভ্যেস, ছোটবেলায় এমনও দিন গিয়েছিলো আমি সারাদিনই না খেয়ে ছিলাম শুধুমাত্র তরকারী পছন্দ হয় নাই বলে। নতুন করে পছন্দের তরকারী রান্না করা হয়েছিলো তারপর আমি ভাত খেয়েছিলাম। আর বাসি খাবার তো আমি ভুলেও ধরতাম না প্রয়োজনে তিন দিন না খেয়ে থাকতে রাজি ছিলাম। সত্যি বলতে আপনি আমি যতই সচেতন থাকি না কেন? কপালে যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে সেটা কোনভাবেই ঠেকানো সম্ভব না।

বাস্তব জীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের জন্য চরম একটা শিক্ষা, আমরা চাইলেও এগুলোকে যেমন এড়িয়ে যেতে পারি না ঠিক তেমনি না চাইলেও সেগুলো হতে সতর্ক হতে পারি না। তবে হ্যা, একটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আর সেটা হলো অভিজ্ঞতা। এর আগে আরো দুইবার আমার এমন হয়েছিলো এবং দুইবারই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো, অফিস হতে সরাসরি হাসপাতালে এমন হয়েছিলো। তারপর দুই দিন পর্যন্ত সেখানে ভর্তি থাকতে হয়েছিলো। ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথম ২৪ ঘন্টা স্যালাইন পুশ করে রেখেছিলেন সাথে ব্যথানাশক ঔষধ। আর মুখে সকল খাবার বন্ধ।

সেই অভিজ্ঞতাটাই গতকাল কাজে লাগিয়েছিলাম, ঘুম আর ঘুম। অবশ্য তারপর সেটা বেশ কাজে দিয়েছিলো ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে শুরু করে। এখনো যখন পোষ্ট কম্পোজ করছি হালকা ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। হয়তো আগামী ২৪ ঘন্টার মাঝে সুস্থ হয়ে যাবো, তবে যদি আমার অনুমান ভুল হয় তাহলে হয়তো ভিন্ন কিছু ঘটে যেতে পারে জীবনে। ঐ যে অনিশ্চয়তা সেটার মাঝে কিন্তু এখনো আছি। যাইহোক, সকল পরিস্থিতিতে আমাদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে এবং ঘাবড়ে গেলে চলবে না, সাহস হারিয়ে ফেলা মানেই হেরে যাওয়া।

Image Taken from Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

বুকে ব্যথা তো বড় ভয়ানক জিনিস ভাই। আপনি বিষয়টিকে ফেলে রাখবেন না একেবারেই। অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে প্রয়োজনে একটি ইসিজি করে নেবেন। তবে যদি এসিড থেকে হয় তবে তারও চিকিৎসা করান ভালোভাবে। কারণ গ্যাসের সমস্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগের জন্ম হয়। আর খাওয়া দাওয়ায় একেবারেই অনিয়মিত হবেন না। সব সময় কিছু না কিছু অল্প খাবার অবশ্যই গ্রহণ করুন।

অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনার সুচিন্তিত ও সুন্দর মতামত দেয়ার জন্য। হ্যা, আমি নিজেও চিন্তা করেছি একজন কার্ডিওলজি ডাক্তার দেখাবো।

আপনি ঠিকই বলছেন জীবনটা বড় অনিশ্চিত। হঠাৎ সুস্থ হঠাৎ অসুস্থ কেমন ভাবে কি হয়ে যায় বোঝা যায় না। আর আপনি তো খাবারের প্রতি বেশ সাবধান সেটা বুঝতে পারলাম। আসলে জীবন কখন কিভাবে যে অতিবাহিত করতে হয় বলা খুবই মুশকিল। অনেক ভালো লাগলো আপনার আজকের আবোল তাবোল জীবনের গল্পগুলো পড়ে।

অনেক ধন্যবাদ আপু, এই অনিশ্চিত জীবনকেই গতিশীল রাখার জন্য আমাদের যত প্রচেষ্টা।

আপনার মনে হচ্ছে হজমের সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে একটা উপায় বলতে পারি যদি মেন্টেন করেন অনেকটাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। রোজ সকালে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম জল খাবেন এবং যা কিছু খাবেন খাওয়ার মিনিট দশেক পরেই এক গ্লাস করে গরম জল খেয়ে থাকবেন। আর অবশ্যই ঘুমানোর আগে। খাওয়ার পরে গরম জল খাওয়া বা যখন তখন গরম জল খেলে পেটে জমে থাকা অতিরিক্ত গ্যাস অ্যাসিডিটি গুলো কমিয়ে দেয় এছাড়াও খাবার দাবার হজম করতে সাহায্য করে। আমরা যতই সুস্বাদু খাবার খাই না কেন বর্তমানে যে ধরনের তেল বা সবজি উৎপাদন হয় তা আসলে কোনটাই শরীরের পক্ষে ঠিক স্বাস্থ্যকর নয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অনেক ভেবেচিন্তেই সবকিছু করতে হয় নইলে শরীর কিন্তু খারাপ হয়ই। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন আর কয়েকদিন একটু হালকা খান।

আপনি ঠিকই ধরেছেন, আমার হজমের সমস্যাটা সেই ছোটবেলা হতেই, এমনিতে বেশ বেছে বেছে খাওয়ার চেষ্টা করি আমি। খুবই সুন্দর একটা পরামর্শ দিয়েছেন দিদি, আমি অবশ্যই এটা মেন্টেন করার চেষ্টা করবো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনি তো খুব উৎফুল্ল মানুষ। আপনার অসুস্থতা শুনতে ভালো লাগে না। আর অসুস্থতা আপনাকে মানায়ও না। ভালো থাকুন।

আমাদের জীবনটাই তো অনিশ্চিত। আর এখানে কখন কি ঘটবে এটার কোন নিশ্চয়তা নেই। আপনি অসুস্থতা নিয়ে অফিসে গিয়েছেন সেখান থেকে অসুস্থতা নিয়েই আবার বাসায় ফিরে একটা লম্বা ঘুম দিয়েছেন এটা শুনে ঘাবড়ে গেলাম। হঠাৎ করে এমন হওয়া স্বাভাবিক বিষয় নয়। আর আমাদের সব সময় সতর্ক থাকা উচিত। তবে ভালোভাবে ঘুম দিলে আর রেস্ট নিলে আশা করি ব্যথাটাও সেরে যাবে। দোয়া রইলো ভাইয়া।

বুকের ব্যথা নিয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। জ্রুরী ভিত্তিতে একজন ডাক্তার দেখানো দরকার। তবে গ্যাসের জন্য বুকের ব্যথা হলে নিয়ম মেনে খাবার খেলে এবং সেই সাথে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিলেই আশাকরি সুস্থ হয়ে যাবেন। মনে হচ্ছে রাত জাগছেন এবং খাবার খাওয়ায় অনিয়ম করছেন। নিজের শরীরের যত্ন নিন।যেনো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন এই দোয়া করি।

আমারও মনে হচ্ছে পেটে গ্যাস জমার কারণে বুক ব্যথা হয়েছে আপনার। তবে দ্রুত ভালো ডাক্তার দেখানো উচিত আপনার। তাছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে একটি গ্লাসে মেথি ভিজিয়ে রাখবেন এবং সকালে পানি সহ মেথি খেয়ে নিবেন। দেখবেন পেটে গ্যাস জমবে না সহজে। যাইহোক আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া রইলো ভাই।

আপনার শারীরিক সমস্যা সত্যিই চিন্তার বিষয়, তবে আপনার মানসিক শক্তি প্রশংসনীয়। জীবন সত্যিই অস্বাভাবিক এবং অনিশ্চিত, কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকেই আমাদের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। গ্যাসের কারণে বুকের ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক, তবে সঠিক চিকিৎসা ও বিশ্রাম আপনাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলবে।ভালো হবে দেরি না করে দ্রুত একজন কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া। দোয়া রইলো ভাই আপনার দ্রুত সুস্থতার জন্য।

আপনার অভিজ্ঞতা পড়ে মনটা খুব স্পর্শ হলো। জীবনের অনিশ্চয়তা আর হঠাৎ এসে পড়া অসুস্থতার মাঝে যে সাহস ও মানসিক শক্তি আপনি দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনার এই সংগ্রামের গল্প আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় কঠিন মুহূর্তেও হাল না ছেড়ে, সাহস ধরে এগিয়ে চলতে হয়। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য শুভকামনা জানাই, ধন্যবাদ ভাইয়া।