অনুপ্রেরণামূলক লেখা- জ্ঞান অর্জনের পথ বড়ই পিচ্ছিল

in hive-129948 •  2 years ago  (edited)

২০ আগস্ট ২০২২, শনিবার
আসসালামু অলাইকু/নমস্কার

আসসালামু আলাইকুম লেখার শুরুতে সবাই আমার সালাম ও আঘাত গ্রহণ করবেন। এই কয়েকদিন গরম ও বৃষ্টিতে খুব স্বস্তিদায়ক একটি সময় কাটছে। জীবনে কোন কিছু সহজ লব্ধ নয়। মহৎ কিছু অর্জনের জন্য উপযুক্ত বিনিময় দিতে হয়। আপনি ভালো যে কোন কিছু পেতে চান আপনাকে উপযুক্ত বিনিময় দিতে হবে। Get a excellent preparation make a tremendous result. তাইতো বলা হয় সূর্যের মতো আলো দিতে চাইলে আগে সূর্যের মতো নিজেকে পোড়াতে হবে। এখানে আমি কয়েকজন বিখ্যাত মনীষীর জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া ও জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে তারা কিভাবে সাধনা করেছেন তা আপনাদের নিকট তুলে ধরবো। নিশ্চয়ই এই লেখাগুলো আপনাদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণাদায়ক হবে।


12.png

নিশ্চয়ই জ্ঞানার্জনের পথ অতিশয় কন্টাকাকীর্ণ । জীবনে বড় হতে গেলে এ দেহকে বেশি মায়া করা যাবে না। আমরা কেউই মানবিক কস্টের উর্ধ্বে নই। পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জনকে আমাদের ভিশন ও মিশনে পরিণত করতে হবে । আরামের আয়েশের পসরা মেলে বসে থাকলে হবে না। তাহলে সারাটা জীবন হতাশার সাগরে জ্বলে পুড়ে মরতে হবে।


সক্রেটিসের কথা আমরা সবাই জানি। মহান এই দার্শনিককে হেমলক নামক গাছের রস পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি কিন্তু সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মগ্রহণ করেননি। তার চলার পথ ছিল বড়ই কন্ঠকাকীর্ণ। ছেলেবেলায় তিনি পড়াশোনার সুযোগ পাননি তাকে পাথর কাটার কাজ নিতে হয়েছে। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের প্রতি তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাকে আজ জগত বিখ্যাত বানিয়েছে। তার জীবনের ইতিহাস হতে দেখা যায় তিনি যখন যেখানে যেটুকু জানার সুযোগ পেতেন সেইটুকু জ্ঞান অর্জন করে নিতেন। ঘটনাক্রমে তার সাথে এক ধনী ব্যক্তির দেখা হয়। পূর্ব থেকেই মানুষের প্রতি সুন্দর ও ভদ্র আচরণ করতেন সক্রেটিস। ওই ধনী ব্যক্তি সক্রেটিসের ভদ্র ব্যবহার ও বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তায় মুগ্ধ হয়ে তার পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সমস্ত দিন পরিশ্রম করতেন দিনের পর দিন সাধনা করতেন প্রখর রৌদ্রের তাপ তার দরকার হতো না।


যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন তারা সকলে আর্কিমিডিস সম্পর্কে জানেন। আর্কিমিডিস তো এমন একজন ব্যক্তি যিনি দিনের পর দিন গবেষণায় পার করে দিয়েছেন। বহির্বিশ্বে কে কি করছে তিনি তার কোন খোঁজ খবরই রাখতেন না। তিনি সারাদিন কাগজ-কলম নিয়ে বসে থাকতেন বাইরের জগতের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না । এমন অনেক দিন গেছে তার কাজের লোক তাকে খাবার দিয়ে গিয়েছে কিন্তু তিনি পেটের ক্ষুধা ভুলে যান। খাবারের জায়গায় খাবার পড়ে থাকত। তিনি গোসলখানায় গেলে গোসল করার কথা ভুলে যেতেন। দেখা গেছে বাথরুমের দেয়ালে তিনি অংক করতে থাকতেন। এভাবে সাধনা করে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন।


আল ফারাবি সম্পর্কে যারা পড়াশোনা করেছেন তারা জানেন দীর্ঘ ৪০ বছর বাগদাদে জ্ঞান অর্জনে লিপ্ত ছিলেন। তার অর্থের প্রতি কোন মোহ ছিল না। তার একটাই মিশন এবং ভীষণ ছিল নীরব মনে জ্ঞান অনুশীলন করে যাওয়া। আমরা জানি জগতের মহৎ আত্মাগুলো নীরবতাই ভোগে বেশি। তিনি তার বন্ধু-বান্ধবের ন্যায় খেলাধুলা আমোদ প্রমোদে লিপ্ত থাকতে পছন্দ করতেন না।


চিকিৎসাবিদ ইবনে সিনার কথা আমরা সকলে জানি তিনি এমন একজন মহান ব্যক্তিত্ব যিনি কঠোর সাধনা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছিলেন তার সারাটা জীবন। তিনি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সম্পদ ভোগ বিলাস তাকে টানতে পারিনি। তার শয়নে স্বপনে ছিল কেবলমাত্র জ্ঞান সাধনা । জ্ঞান সাধনার মধ্যেই ছিল তার নীরব মনোনিবেশ। তিনি আঘাতের পর আঘাত করতেন যতক্ষণ না তিনি তার কাঙ্খিত প্রশ্নের সমাধান না পেতেন নিরলস সাধনা করে যেতেন। হয়তো দেখা গেছে তিনি কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছেন হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠেই তার সমস্যার সমাধান পেয়ে যেতেন। তিনি ছিলেন তার সময় সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ও পরিশ্রমী ব্যক্তি। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোন চ্যাপ্টার ছিল না যেখানে ইবনে সিনার পা পড়িনি। জ্ঞান চর্চার প্রতি ছিল তার ভীষণ আসক্তি।


বিপ্লব সেতো প্রসব বেদনা। তাই জীবনে জ্ঞান সাধনা বড় হতে হলে নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রসব বেদনা দিন। ব্যর্থতার দেয়ালে বারবার জোরালোভাবে আঘাত করুন । ব্যার্থতা পাথরের নেয় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। যতদূর সম্ভব অপ্রয়োজনীয় আড্ডা হাসি গাল গল্প থেকে দূরে থাকুন। শুভ ভাইয়ের মতো বলুন আমরা কর্ম করে খাই। নিজেকে কর্ম ও জ্ঞান সাধনায় ব্যস্ত রাখুন।


পড়াশোনায় মত্ত থাকুন সারাদিন । শুধু পড়া আর পড়া এই চরম একাগ্রতা পরিশ্রম অধ্যবসায় আর অনুরাগের মিশ্রণে আপনি পৌঁছে যাবেন কাঙ্খিত লক্ষ্য স্থলে। কয়লার খনিতে যেমন হীরা থাকে তেমনি নিজেকে কয়লার মত পোড়ান


ভাল লাগবে আমার লেখা পূর্বের অনুপ্রেরণামূলক লেখাগুলো একবার চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন।



অনুপ্রেরণামূলক লেখাশিরোনাম
০১ .মানুষকে মর্যাদা দিন
০২ .কেবল আজকের জন্য বাঁচুন
০৩ .জীবনে সুখী হতে গেলে ০৭টি বিষয় মেনে চলুন
০৪ .অলস মনটারে সর্বদা কাজ দিয়ে রাখুন
০৫ .ঠান্ডা মস্তিষ্ক

ব্যানার.PNG

আমি মোঃ সাইদুর রহমান সরকার পেশায় একজন ব্যাংকার। হাই স্কুল জীবনে ছড়া, ছোট গল্প ও কবিতা লেখার হাতেখড়ি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই লেখালেখির কাজটি অবহ্যাত রাখতে পেরেছিলাম। বই পড়া এবং বই সংগ্রহ করতে আমার ভালো লাগে । আমি জীবনে একজন ভালো মনের মানুষ এবং ভালো মানের একজন লেখক হতে চাই । আমি প্রতিদিন ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই। প্রতিদিন একটু একটু করে আমার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পানে এগিয়ে যেতে চাই। আমার সমস্ত কর্ম তৎপরতা আমার স্বপ্নকে ঘিরে। এটা আমার আজন্ম সাধনা। আমার জন্য দোয়া করবেন।

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  

আসলে ভাই খুবই অনুপ্রেরণামূলক একটি পোস্ট আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। পোস্টটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। আসলে সত্যি বলতে এসব মনীষীদের জীবনে পড়লে নিজেদেরকে কিছুই মনে হয় না। মাঝেমধ্যে ভাবি আমরা কেন আসলাম দুনিয়াতে আমাদের দ্বারা কি উপকারটা হল কি দিতে পেরেছি এই দুনিয়াটাকে। আসলে অনেক কিছুই চিন্তাভাবনা আসে তারপরও দিন শেষে পরিবার-পরিজনের কথা ভেবে নিজের কর্মস্থলের কথা ভেবে আবার সেগুলোকে ভুলে যেতে হয়। এটাই হলো বাস্তবতা শুভ ভাই যেরকম বলে আমরা কাজ করে খাই তেমনি আমিও মনে করি দিন শেষে পরিবারের কিছু লোক আছে তাদের কথা চিন্তা করতে হবে এবং নিজের কথাও চিন্তা করে এগিয়ে যেতে হবে।

আসলে জীবনে বড় হতে হলে মাটি কামড়িয়ে পড়ে থাকতে হয়।

আপনি অনেক সুন্দর একটি বিষয়ে আমাদের সাথে তুলে ধরেছেন ভাই । আসলেই আমাদের জ্ঞান অর্জনের পথ হচ্ছে পিচ্ছিল। যেটা আমরা কেউ সহজে পার হতে পারি না। আর যে একবার সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারি সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া অনেক সুন্দর একটি বিষয়ে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য

জীবনে ভালো কিছু পেতে হলে উপযুক্ত প্রতিদান দিতে হয়