প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলায় লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে প্রায় দশদিন ছিলাম। অনেক অভিজ্ঞিতা, অনেক গল্প তৈরি হয়েছে। ছবি দিয়ে সেসব শেয়ার করব করব করেও করা হয়ে ওঠে না। আসলে অনেক গল্প তো, মাঝে মাঝে কেমন যেন গুলিয়ে যায়৷ সবটা গোছানো বা গুছিয়ে জীবন কাটানোর মতো মানুষ আমি কোনদিনই নই।
যাইহোক এই গল্পটা শুরু হয়েছিল গত বছর বইমেলায়। শেষ হল এবার।
পারস্পরিক নামক একটি নতুন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল অমিতাভ দাস দাদার এই মুক্তগদ্যের বইটি- যা আছে তা একটা অপেক্ষা। বইটি উনি তন্ময় সরকারের সাথে আমাকে উৎসর্গ করেছেন। পাঠিকা হিসেবে এমন প্রাপ্তি জীবনে প্রথম। এর আনন্দ অনাবিল। কিভাবে প্রকাশ করা উচিত বা করব আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না।
লিখতে এসে কবি সাহিত্যিকদের অনেকের সাথেই অনেক পরিচিতি হয়ে যায়৷ অমিতাভদাও সেরকমই একজন মানুষ। সত্যি বলতে কি আমি যখন কবিতা লিখতাম না তখন থেকেই অমিতাভদার বই পড়ি৷ ফেসবুকে ওনার সাথে পরিচয় হয়। লেখাগুলো খুবই ভালো লাগত। অল্পবিস্তর কমেন্ট করতাম। কমেন্ট পড়ে পড়ে উনি খুবই উৎসাহ দিতেন। বলতেন কবিতা লিখতে। আমি নাকি কবিতা লিখতে পারব। তারপর একদিন আবারও নতুন করে শুরু করলাম। এবার শুরু হল পত্রপত্রিকায় চলার পথ। কবিতা নিয়ে ওনার সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়েছে। কবিতার গঠন, বা কিভাবে কবিতা শেষ করব এই সব কিছু নিয়ে উনি ববাবরই আমার পাশে থেকেছেন। অন্তর থেকেই ওনার প্রতি কৃতজ্ঞ৷
গতবছর উনিই নিজের গরজে আমার ইক্যুয়াল টু অ্যপল বইটি প্রকাশ করেছিলেন। বইকে ভালোবেসে ওনার শখের প্রকাশনী, নাম অবগুণ্ঠন৷ কিন্তু বই আসার পর থেকে আমার সাথে আর দেখা হয়নি।
তাছাড়া গতবছর বইমেলায় সময়ের ম্যানেজমেন্টের সমস্যা হয়েছিল। অমিতাভদা নিজেও বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বইমেলার দিনগুলোতে৷ তাও জ্বর গায়ে একদিন এসেছিলেন আমার ইক্যুয়াল টু অ্যপল পৌঁছে দিতে৷ স্রেফ দায়িত্ববোধ থেকে। কারণ বইমেলায় না এলে আমি আর বইটি পাবই না।পাটজকের হাতে তুলে দেওয়া তো অনেক পরে। কিন্তু সেদিন দেখা হয়নি। সম্ভত আমি বাড়ি চলে এসেছিলাম। ফলে ওনার এই বইটি আমার পাওয়া হয়নি। সুতরাং-এর স্টল থেকে নিতে পারতাম। কিন্তু নিইনি। কেনই বা নেব? যিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর হাত থেকে নেওয়ার মতো আনন্দ কি আর অন্য কিছুতে আছে?
তাছাড়া অপেক্ষা আমি করিই৷ চিরকালই করি। অপেক্ষার ফল মিঠা হয়। কোনদিন কোন কিছু পাওয়াতে আমার কখনোই তাড়াহুড়ো ছিল না৷ আজও নেই। প্রাপ্তির বিষয়ে উদাসীন হলেও কিছু পেলে আনন্দই হয়৷
সকলেরই হয়। পেতে সকলেই ভালোবাসে। আর লেখক জীবনে এমন চমৎকার উপহার পেলে আনন্দ তো হবেই৷ হবে না বলুন?
আজ আপনাদের সাথে সেই আনন্দ থেকেই এই লেখাটা শেয়ার করলাম। আশাকরি মনের খুশি পরিমাপ করতে পারছেন।
ভার্চুয়াল দুনিয়া মানুষকে অনেক কিছু দেয়। এই প্রাপ্তিও এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার হাত ধরেই৷
যাইহোক বিশেষ উপহারের গল্প এই পর্যন্তই থাক। আপনারাও ভালো থাকুন। আনন্দে থাকুন।
টা টা

পোস্টের ধরণ | লাইফস্টাইল ব্লগ |
---|---|
ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিতব্য গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit
https://x.com/neelamsama92551/status/1895114028785054163?t=cO0JSegszY-1ZjoebgIaMQ&s=19
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit