ইদানিং ডিভোর্স শব্দটা এতই কমন হয়ে গেছে

in truly •  6 years ago 

ইদানিং ডিভোর্স শব্দটা এতই কমন হয়ে গেছে যে, কোন সম্পর্কের একেবারে সামান্যতম ভুলটাও এখন ডিভোর্স দিয়ে শেষ করতে হচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকে কিংবা তার আগে আমরা যাদের জন্ম তারা তাদের মা বাবাদের দেখে আসছে সম্পর্কের মাঝে শত শত প্রবলেম, পারিবারিক কলহ, একে অপরের মাঝে দূরত্ব থাকার পরেও কখনো সম্পর্ক ভেঙে দেয়ার কথাটা মাথায়ও আনেননি। বাংলা ছায়াছবির শাবানা, ববিতা, রোজিনাদের মতো শেষ অব্দি লড়ে গেছেন আমাদের মায়েরা।
তখনকার মেয়েরা বিয়ের পরে সম্পর্কটাকে পবিত্রতার সাথে গ্রহন করেছিল। খোঁজ নিয়ে দেখবেন তাদের স্বামী অনেকেই আয় উপার্জনের জন্য বছরের পর বছর প্রবাসী জীবনও কাটিয়েছে।
দূরত্ব ছিল অনেক তবে ভালোবাসা ছিল প্রবল।

কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা বিয়ে জিনিসটাকে একটা পুতুল খেলা মনে করে। সম্পর্কটা মনে হয় তাদের কাছে জাস্ট একসাথে কিছুদিন থাকার একটা লিখিত চুক্তি । ডিভোর্স হওয়ার কারনগুলোও খুব লক্ষনীয় এ যেমন - পুরোনো প্রেম বিয়ের পর জেগে উঠা, একাকীত্ব দূর করার জন্য পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া, একে অপরকে সময় দিতে না পারা, পারিবারিক কলহ, এডজাস্টমেন্ট করতে না পারা ইত্যাদি।

একপ্রকার স্ট্যাডি করে দেখলাম বিশেষ করে এখনকার মেয়েদের মধ্যে এ ব্যাপারগুলো খুব জলদি জলদি চলে আসে। আমাদের মায়েদের জেনারেশন আর এখনকার যুগের মেয়েদের জেনারেশনের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য বলতে পারেন। আমাদের মায়েরা চাই তার বউ সুশীল, সুন্দর, রান্নাবান্না করতে পারা, তার সবসময় খেয়াল রাখা, তার মতো করে ঘরের সমস্ত দ্বায়িত্ব বুঝে নেয়া। আর এখনকার মেয়েরা চাই স্বাধীনতা, নিজের মতো করে বাঁচতে শিখা, শাশুড়ি স্মার্ট হলে ভালো আর শাশুড়ি না থাকলে আরো ভালো। আর আমরা ছেলেরা এ দুজনের মাঝখানে স্যান্ডউইচের মতো আটকে থাকি। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজটা মনে হয় এ দুজনকে একসাথে খুশি রাখতে পারা। আর আমরা যারা তা পেরেছি তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি।

কখনো জুতো দেখেছেন, একটা চলে গেলে কিন্তু আরেকটা অচল। সেটা সবচেয়ে দামী জুতা হোক না কেন একটা না থাকলে কেউ আরেকটা নিবে না। আমি ছোট থেকে এ পর্যন্ত ১২ জোড়া জুতো হারিয়েছি মসজিদে। একবার বুদ্ধি করে সদ্য কেনা দামী জুতা একটা রেখেছি মসজিদের এক কোণায় আরেকটা মসজিদের অন্য কোণায়। তারপর থেকে কখনো জুতো চুরি হয়নি। একটা জুতোর কোন মূল্য নেই সেটা চোরও বুঝে।
সম্পর্কটা তেমনি। আপনি যতক্ষন একত্রে থাকবেন ততক্ষণ আপনার সমস্ত প্রবলেম ফেইস শক্তি থাকবে।
সম্পর্ক গড়তে শিখুন ভাঙ্গতে নয়!

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  
  ·  6 years ago (edited)

Flagged for taking bid bot upvote on copy/paste post Source @steemflagreward

sotti kotha

(Posted with Vapor, available for iOS and Android)

যেই জেনারেশনে বাবা মা সন্তার জন্মের পর পর ই ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়িয়ে সানি লিওন বানিয়ে তাকে দিয়ে লাইক কমেন্টের আশায় টিকটক ভিডিও বানায়, সেই জেনারেশন এর বাচ্চারা আর কতো ভালো হবে? বড় হয়ে তারাও তো এরকম হয়ে যাবে।