আসসালামুয়ালাইকুম, এবং হিন্দু ভাইদেরকে আদাব।আমার বাংলা ব্লগ এর সবাই কেমন আছেন, আশা করি প্রত্যেকে অনেক বেশি ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকের ব্লগ এ আমি আমার গ্রামের আগামী প্রজন্ম সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। চলুন তাহলে এবার শুরু করা যাক।
আমার গ্রামের নাম খোড়াগাছ মিয়া পাড়া। আমার এই গ্রাম ঘনবসতিপূর্ণ। আমার জেনারেশনে আমার ছেলে সহপাঠী ছিল ১৩ জন। মূলত এই ১৩ জন মিলেই আমরা আমাদের শৈশব কাটিয়া এসেছি। আমাদের সময় মোবাইল ফোন ছিল না। তবে দুই একটা নোকিয়া বাটন ফোন ছিল তাও আবার দুই একজনের মাঝে। আমরা ছোটবেলায় অনেক মজা করেছিলাম। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রচুর পরিমাণে করতাম। আমরা মূলত ব্রাক স্কুল থেকে ফাইভ পাস করেছিলাম। আমাদের ব্রাক ছুটি হওয়ার সাথে সাথেই ব্যাট বল নিয়ে আমরা মাঠে খেলতে যেতাম। বিকাল হলে মার্বেল, লই লই, গোল্লাছুট, ঝাইল ঝাইল, বউছি, টুটু/লুকোচুরি ইত্যাদি ধরনের আঞ্চলিক খেলাধুলা করেছিলাম।
আমাদের বর্তমান জেনারেশন স্মার্টফোন হাতে পেয়ে এসব আঞ্চলিক খেলাধুলা থেকে দিন দিন বিরত হচ্ছে। বর্তমানে স্মার্টফোনে এই জেনারেশন বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলে থাকেন এর মধ্যে পাবজি এবং ফ্রি ফায়ার অন্যতম। আজকে আমি ক্রিকেট খেলার জন্য এক ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গে এসেছিলাম। এখানে এসে দেখতে পেলাম সবাই ফোন নিয়ে ব্যস্ত। টঙ্গের এক কোণে ব্যাট বল পড়ে আছে। কিছু সময়ের জন্য সেখানে বসে ছিলাম আর দেখতে ছিলাম তাদের কর্মকাণ্ড। মার মার, ধর ধর, এনিমি আর অট্টহাসিতে আমার মাথা ঘোরা শুরু হয়েছিল।
তাদের এমন পরিস্থিতি দেখে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে এভাবে চললে তোমরা এসএসসি পাস করতে পারবানা আর অতি শীঘ্রই তোমরা পাগল হয়ে যাবা। এখনো সময় আছে এসব খেলা থেকে বিরত থাকো। কিন্তু তারা আমার কথা শুনল না বরং তারা বলল পড়ালেখা করে কে বড়লোক হয়েছে। তাদের এমন উদ্ভট কথাবাত্রা শুনে আমি আর সেখানে থাকলাম না ছোট ভাইটিকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রহনা হয়েছিলাম ইতিমধ্যেই একজনের বাবার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। উনাকে বললাম আপনার ছেলে যে হারে ফ্রী করার খেলতেছে এসএসসি পাস করতে পারবে না আপনার ছেলেকে শাসন করেন যাতে করে আর ফ্রি ফায়ার না খেলে। পারলে ফোনটা কেড়ে নিয়ে রেখে দেন।
তিনি বললেন আমার ছেলে আমার কথা শোনে না। আমরা কি কম শাসন করি । না বুঝলে আর কি করার। বাবা তোমরা এক না আমার ছেলেটিকে ভালোভাবে বোঝানতো। আমি উনাকে বললাম আপনার ছেলে আপনারাই কথা শোনে না ,আমি একটু আগেই বুঝাইলাম । আমাকে বলতেছে আপনার ছেলে যে পড়ালেখা করে কে বড়লোক হয়েছে। আপনার ছেলেকে আপনিই একমাত্র ঠিক করতে পারেন। এখন শাসন না করলে পরবর্তীতে আর শাসন করলে কাজ হবে না। এই বলে আমি বাসায় আসলাম।
তবে এই জেনারেশন এখনো কিছু সংখ্যক খেলাধুলা করে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফুটবল আর ক্রিকেট। বর্তমানে এই দুটি খেলা খেলতে দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের আঞ্চলিক খেলাধুলা গুলো প্রায় বিলুপ্তর পথে। আমরা যে পরিমাণে আনন্দ উপভোগ করেছিলাম বর্তমান জেনারেশন তা মোবাইল ফোনে করতেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আগামী প্রজন্ম একটি অসুস্থ প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠবে। পড়ালেখা আর কঠোর পরিশ্রম ব্যতীত কখনো উন্নতি সাধন করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি আমাদের জেনারেশনকে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা ,যাতে করে আমাদের আগামী প্রজন্ম যাতে এসব গেমসে আসক্ত না হয়ে পড়ে তার জন্য তাদের ফ্যামিলিকে সচেতন করা।
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Device | Tecno spark 20C |
---- | ---- |
Camera | 50 MP |
County | Bangladesh |
Location | Rangpur, Bangladesh |
Vote@bangla.witness as witness
যতদিন যাচ্ছে খেলাধুলা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সবাই এখন মোবাইল নিয়ে খেলাধুলা করে। এজন্য শরীরচর্চা ব্যায়াম বন্ধ থাকতে আর বিভিন্ন খেলাধুলা আমাদের মাঝ থেকে বিলুপ্তি হচ্ছে। একটা সময় দেখা যাবে এ সমস্ত মানুষগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাই তাদের সজাগ করতে হবে এই সমস্ত বিষয়গুলোতে যেন অনলাইনে খেলাধুলা বাদ রেখে শরীর চর্চার খেলাধুলা গুলো ঠিকভাবে করে সকল বিকাল।
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit
হ্যাঁ আপু ঠিক বলছেন আপনি 😍
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit
আমাদের শৈশব জীবন অনেক আনন্দে ছিল। তবে বর্তমানে সেই আনন্দ দেখা যায় না। সবাই ইন্টারনেটের প্রতি কিংবা মোবাইলের প্রতি আসক্ত। তাদের শৈশবের সুন্দর দিনগুলো নষ্ট করে ফেলছে। ব্যাপার গুলো খুবই দুঃখজনক।
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit
হ্যাঁ ভাইয়া আমাদের নিজেদেরকে সচেতন হতে হবে। বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া যাবে না। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।
Downvoting a post can decrease pending rewards and make it less visible. Common reasons:
Submit