আমার বাংলা ব্লগ। হঠাৎ দুঃসংবাদ, প্রিয় ছোট ভাই। ১০% beneficiary shy-fox এর জন্য।

in hive-129948 •  2 years ago 
আপনারও আপন হয় যদিও সেই পর চিরজীবন একই সাথে চলে যায় জীবন ভর নিজের ছোট যদিও নেয় তবুও ছোট ভাই দুঃসংবাদ শুনলে কি আর ঘরে থাকা যায় আপন নয় তো তবুও আপন প্রিয় ছোট ভাই কর্মজীবন শুরু করে আমার হাত ধরে তাই মায়ায় মমতায় ভালোবাসায় অধিক প্রিয় ডাকে বড় ভাই সে যে আমার কত প্রিয় তাহার তুলনা নাই।

হঠাৎ দূর সংবাদ, প্রিয় ছোট ভাই।

20221004_175726.jpg

ছবিটা দেখে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন আমার বাংলা ব্লকবাসি কোথাও বেড়াতে যাচ্ছি সহধর্মিনী কে নিয়ে। হ্যাঁ ঠিকই বুঝেছেন বেড়াতে যাচ্ছি। তবে এই বেড়ানো সুখের বেড়ানো নয়। হঠাৎ করে ছোট ভাইয়ের দঃসংবাদ পেয়ে ছুটে চলা দেখতে যাওয়ার জন্য। তবে যদিও আপন ছোট ভাই না আত্মীয়-স্বজন নয় কিন্তু সে আমার আপনের ও আপন। তার কর্মজীবনের শুরুটা আমার হাত ধরে। সেই থেকে সে যেমন আমাকে বড় ভাইয়ের মর্যাদা দিয়ে এসেছে আমিও তাকে ছোট ভাইয়ের স্নেহ আদর ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছি।


FUkUE5bzkAZT3HzV5tJDiU2ik81PCd4JCyhWnRcDN8XJsVFY3UNB8DCRWUhECrBewyvr56XLHQLFtR3iJUgyYXhoNnQzaPV4fGATT2PmXhFCBxcFCr2kEHS2obaiYPVBvHXcZ5NDLfrZh4qAU4CWzpqmK5XnDexEGztE.png


received_657007189118533.jpeg

যদিও সে অন্য কোম্পানিতে চাকরি করে, কিন্তু থাকে আমার সাথে একই বাসায় খাওয়া-দাওয়া একইসাথে। অতএব বুঝতে পারছেন কতটা ভালবাসলে এবং কি কতটা বিশ্বাসযোগ্য হলে একটা মানুষ নিজের সাথে থাকে, যদিও সে আপন নয়। সোমবার দিবাগত রাত্রে এক্সিডেন্ট করে, রাতে বাসায় ফিরেনি ভাবলাম হয়তো নাইট ডিউটি পড়েছে তাই আসেনি। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি টের পাইনি। তবে রাতের স্বপ্নটা যে বড়সড়ো ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছে সেটাও ভালো করে আন্দাজ করতে পারেনি যে কোন একটা বিপদ হয়েছে। আমার ডিউটি ভোর পাঁচটায়, ডিউটিতে চলে আসি, আবার যখন সকাল বেলা নাস্তা খাওয়ার জন্য নয়টা বাজে বাসায় গিয়েছি তখন ফোন হাতে নিয়েছে তাকে ফোন দেওয়ার জন্য খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য।


FUkUE5bzkAZT3HzV5tJDiU2ik81PCd4JCyhWnRcDN8XJsVFY3UNB8DCRWUhECrBewyvr56XLHQLFtR3iJUgyYXhoNnQzaPV4fGATT2PmXhFCBxcFCr2kEHS2obaiYPVBvHXcZ5NDLfrZh4qAU4CWzpqmK5XnDexEGztE.png


received_1015986009211998.jpeg

তাকে উদ্দেশ্য করে ফোনটা হাতে নেওয়া মাত্রই তার ফোন আসলো ভাই আমি এক্সিডেন্ট করেছি। তখন কলিজার ভিতরটা একটা মোচড় দিলো। আমি জানি আমরা যারা রুলিং মিলে চাকরি করি তারা যদি এক্সিডেন্ট করে আর সেই এক্সিডেন্ট গুলা খুব সাধারন হয় না। আর যদি অত বেশি মারাত্মক না হয় তাহলে মেডিকেলেও যাওয়া লাগে না। তখন কি করব বুঝে উঠতে পারছি না। হঠাৎ করে অফিস ছেড়ে বাইরে যাওয়াটাও প্রায় অসম্ভব। তখন থেকে যে মন খারাপ হলো কখন যাব কখন দেখব কি হয়েছে মনটা সারাটা দিন ছটফট করছে।


FUkUE5bzkAZT3HzV5tJDiU2ik81PCd4JCyhWnRcDN8XJsVFY3UNB8DCRWUhECrBewyvr56XLHQLFtR3iJUgyYXhoNnQzaPV4fGATT2PmXhFCBxcFCr2kEHS2obaiYPVBvHXcZ5NDLfrZh4qAU4CWzpqmK5XnDexEGztE.png


received_1080538985958045.jpeg

এক্সিডেন্ট এর কথা শুনে হৃদয়ে ভেঙে কান্না আসছে। ছেলেটা যেহেতু আমার কাছে থাকে সব দায়দায়িত্ব আমার। ছেলেটার বাড়ি চিটাগং তার সপরিবার সবাই চিটাগঙ্গেই থাকে। তার নাম মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত। কিন্তু আমি জানিনা সেই মেডিকেলে পড়ে আছে। সে যখন অ্যাক্সিডেন্ট করে তখন তার মোবাইলটা তার মিলে রেখেই তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে কারণে আমি খবর পাইনি। অবশেষে চিকিৎসা নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি উঠেছে। আমিও পাঁচটা বাজতেই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে চলে গেলাম তাকে দেখার জন্য। সাথে নিয়ে গেলাম সহধর্মিনীকে।


FUkUE5bzkAZT3HzV5tJDiU2ik81PCd4JCyhWnRcDN8XJsVFY3UNB8DCRWUhECrBewyvr56XLHQLFtR3iJUgyYXhoNnQzaPV4fGATT2PmXhFCBxcFCr2kEHS2obaiYPVBvHXcZ5NDLfrZh4qAU4CWzpqmK5XnDexEGztE.png


20221004_175701.jpg

অবশেষে পৌঁছে গেলাম তার শ্বশুর বাড়ি। সেখানে গিয়ে তাকে যে অবস্থা দেখলাম এবং কি তার এক্সিডেন্ট এর ছবিগুলো দেখার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। তাকে দেখার জন্য যাওয়ার সময় বেশ কিছু ফল ফ্রুট নিয়ে গেলাম প্রায় ৭-৮ কেজির মতো। যদিও তার শ্বশুরবাড়িতে আমাকে অনেকবার দাওয়াত করেছিল আমি যায়নি। সে কারণে আমার খরচটা একটু বেশি করতে হয়েছিল। যদিও এই সময় আমার এত টাকা খরচ করাটা খুব কষ্টসাধ্যের ব্যাপার ছিল। কিন্তু ভালোবাসার কাছে টাকা পয়সা যে হাতের ময়লা মাত্র।


FUkUE5bzkAZT3HzV5tJDiU2ik81PCd4JCyhWnRcDN8XJsVFY3UNB8DCRWUhECrBewyvr56XLHQLFtR3iJUgyYXhoNnQzaPV4fGATT2PmXhFCBxcFCr2kEHS2obaiYPVBvHXcZ5NDLfrZh4qAU4CWzpqmK5XnDexEGztE.png


20221004_175733.jpg

তার শরীরের রক্তে রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল মেডিকেলের দুটি রোম এবং কি যখন সেলাইয়ের কাজ চলছিল তখনকার ফটোগ্রাফি দেখে বুকের ভেতরটা কাপন ধরে গিয়েছে। তবুও আপনাদের মাঝে কয়েকটা ফটোগ্রাফি শেয়ার করলাম। মনে হয় যেন চাইনিজ কুড়ালের কূপগুলো খুব জোরেশোরে লেগেছে তার দুই হাতে। সান্তনা দিয়ে বিষন্ন মনে আবার ফিরে আসলাম নিজ বাসায়। এখন মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। সবাই স্নেহের ছোট ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থতা দান করেন।


FUkUE5bzkAZT3HzV5tJDiU2ik81PCd4JCyhWnRcDN8XJsVFY3UNB8DCRWUhECrBewyvr56XLHQLFtR3iJUgyYXhoNnQzaPV4fGATT2PmXhFCBxcFCr2kEHS2obaiYPVBvHXcZ5NDLfrZh4qAU4CWzpqmK5XnDexEGztE.png


বন্ধুরা খুবই হৃদয় বিধায়ক ঘটনা ছিল, জানিনা কখন কার কি অবস্থা হয়। হয়তো আজ আমি ভালো আছি কালকে নাও থাকতে পারি। সবাই সবার জন্য দোয়া করব ইনশাআল্লাহ। আজকের মত বিদায় নিচ্ছি সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  

ভাইয়া পোস্টটি পড়ে খুব খারাপ লাগলো। দোয়া করি ছোট ভাই সুস্হ হয়ে উঠুক। আজ ২ টা কষ্টের পোস্ট চোখে পরল। 😰😥চিন্তা করবেন না, তিনি ইনশা আল্লাহ সুস্হ হয়ে উঠবেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাইয়া।

বিপদ কখনো কাউকে বলে আসে না। তবুও একটাই চাওয়া দোয়া করবেন যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ফিরে।

Hello friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

এক্সিডেন্ট কখন কার জীবনে হয় বলা মুশকিল। আপনার ছোট ভাইয়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে দেখে খুবই খারাপ লাগলো। তবে আমার মনে হচ্ছে রক্তজনিত ছবিটি পোস্ট করা ঠিক হয়নি। আপনার ছোট ভাই যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে এই দোয়া করি।

আপনি ঠিকই বলেছেন কখন কার জীবনে কি হয় বলা মুশকিল। আপনার কাঙ্খিত মন্তব্যের জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।

দোয়া করি আপনার প্রিয় ছোট ভাই তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠে ।

গঠনমূলক বন্ধুদের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

দুর্ঘটনা কখন কার জীবনে আসে কেউ বলতে পারে না ভাই। আর এমন কিছু মানুষ থাকে আপনের চেয়েও বড় আপন। বিধাতার কাছে প্রার্থনা করি আপনার ভাইটিকে বিধাতা যেন খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দেয়।

হ্যাঁ আপু আপনি ঠিকই বলেছেন কিছু মানুষ থাকে আপনার চেয়েও আপন। আর একজন এই ছোট ভাইটি। দোয়া করবেন যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ফিরে আসে।

এরকম একটা পোস্ট পাব তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, খুবই খারাপ লাগছে মানুষটার এরকম একটি অ্যাক্সিডেন্ট হল। বুঝতে পারছি আপনি তাকে কতটা আদর করেন নিজের ছোট ভাইয়ের মতো ভালোবাসেন। দোয়া করি আল্লাহ তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করুক।

আপনার গঠনমূলক মন্তব্য এবং সান্তনা দুটোই অনেক ভালো লাগলো। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

আপনার শেয়ার করা এই পোস্টটি পড়ে খুবই খারাপ লাগলো ভাইয়া। আসলে এই ধরনের এক্সিডেন্ট গুলো অনেক মারাত্মক আকার ধারণ করে। আর হসপিটালের ছবিগুলো দেখে বুঝতে পারছি কতটা বেশি মারাত্মক ভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন আপনার ছোট ভাই খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

দোয়া করবেন ভাই যাতে তাড়াতাড়ি শেষ সুস্থ হয়ে ওঠে। কাঙ্খিত মন্তব্য করার জন্য আপনার প্রতি রইল ভালোবাসা অবিরাম

আপনার অফিসের মেশিন এর আগে দেখেছি। আসলে এসবের মধ্যে এক্সিডেন্ট করলে ভয়াবহ হওয়ারই কথা। তারপরে মনে হয় আপনার ছোট ভাই অল্পের উপর দিয়ে বেঁচে গিয়েছে। আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আশা করি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। আসলে ভালোবাসার কাছে টাকা পয়সা কোন বিষয় না। ভালোবাসার টানেই আপনি এতগুলো ফল নিয়ে দেখতে গিয়েছেন।

আপু ঠিকই বলেছেন ভালোবাসার কাছে সবকিছুই তুচ্ছ। দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দেন।

শুধুমাত্র রক্তের সম্পর্কই বড় বাঁধন নয় ভাই, রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও অনেক সময় মানুষ এত আপন হয়ে যায় তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার উদাহরণ হিসেবে রয়েছেন আপনারা দুই ভাই। আপনাদের সম্পর্কের কথা শুনে খুবই ভালো লাগলো। তবে তার অ্যাক্সিডেন্টের অবস্থা দেখে খুবই কষ্ট পেলাম। আপনার স্নেহের ভাইটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সেই প্রার্থনা করছি। ধন্যবাদ

আপনাদের দোয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় উত্তম মনে করছি। আর হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন আপন মানুষের চেয়েও আপন হয় পর মানুষগুলো। যেখানে থাকে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা।

আপনার ভাইয়ের এরকম অবস্থা দেখে আমিও কষ্ট পেলাম। আপনার পোস্টটি পড়তে পড়তে পোস্টের মধ্যে হারিয়ে গেছিলাম কিছু সময়ের জন্য। এটা ঠিক বলেছেন ভাই ভালোবাসার কাছে টাকা পয়সা হাতের ময়লাই। আপনার ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল সে খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে যাক।

কাঙ্খিত মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শুভেচ্ছা রইল।

সব সময় সবাইকে নিয়ে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এই শুভ কামনা করি।

ঈশ্বর আপনার ভাই কে সুস্থ করে তুলুক। আশা করি উনি আবার কাজ করতে পারবেন আগের মতই।আসলে ঈশ্বর কার কপালে যে কী লিখেছেন তআ বোঝা যায়। এরপর থেকে আরেকটু সাবধানতা অবলম্বন করতে বলবেন। আর এটা খুবই ভালো কাজ করেছেন যে সাথে করে ফল নিয়ে গেছেন। ওনার দ্রুত আরগ্য কামনা করি।

তকদিরের লিখন যায় না খন্ডন। যতই সাবধানতা অবলম্বন করে না কেন যখন এক্সিডেন্ট কপালে লিখা হয়ে আছে তখন কি করা যায়। যাই হোক অসাধারণ মন্তব্য করেছেন দোয়ার অবশ্যই কামনা করছি। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।

আপনি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন সেটা জানি।কিন্তু ভাইয়া আপনার পোষ্ট পড়তে পড়তে যখন দ্বিতীয় ছবিটি দেখলাম আমার শরীর শিউরে উঠলো।রক্তকে আমি খুব ভয় পাই,খুবই খারাপ লাগলো বিষয়টি।তবে আপনার ভাইয়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি ঈশ্বরের কাছে ,আপনি ও সাবধানে থাকবেন।